কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও একটি ক্ষুদ্র বিশ্লেষণ

0
67

দীপ্ত নিউজ,কপিলমুনি::


আধুনকি কপলিমুনরি রুপকার রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর দানকৃত রেখে যাওয়া সম্পত্তির দখল ও বিভিন্ন সময় তাদের পরিবারকে হুমকির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার সকালে রায় সাহেবের বংশধর অনুপ সাধু ও শান্তনু সাধুর কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বক্তব্য নিয়ে কপিলমুনিতে নানা গুঞ্জণ শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন,তাদের উত্থাপিত বক্তব্য অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা দাবি করেন,বিনোদ বিহারী সাধুর প্রতিষ্ঠিত সহচরী বিদ্যামন্দিরের বেসরকারী নাইট গার্ড মোঃ এনায়েত আলীর স্ত্রী মালঞ্চ বিবি গত ২০১৮ সালের মার্চ মাসে কথিত ডিসিআর বুনিয়াদে তাদের বাড়ীর আঙ্গীনার পশ্চিম সীমানায় বেড়া অপসারণ পূর্বক অবৈধ প্রবেশ করে বাঁশ,চটা পাতা দিয়ে একটি ছোট ঘর নির্মান করেন,এবং আধা ঘন্টার মধ্যে সেটি নিজেই ভেঙ্গে নিয়ে চলে যায়। অতঃপর বিভিন্নস্থানে কেঁদে কেঁদে অপপ্রচার করে যে,তাকে ফজরের নামাজ আদায়রত অবস্থায় অনুপম সাধু গং মারধর করেছে এছাড়া তার বাড়ী-ঘর ভেঙ্গে নদীতে ফেলে দিয়েছে । সে আমাদের পরিবারের সদস্য,আত্বীয়,প্রতিবেশী সহ মোট ৭জনের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন ।

বক্তব্যের তথ্যানুযায়ী কথিত ডিসিআর বুনিয়াদে মালঞ্চর অবৈধভাবে তাদের সীমানায় অনুপ্রবেশ ও ঘর নির্মাণ অত:পর নিজেই সেই ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রথমত ডিসিআর শুধুমাত্র সেই জমিরই হয়,যা কিনা সরকারের বন্দোবস্ত যোগ্য। যদি সত্যিই তাদের সীমানায় মালঞ্চ ডিসিআর পান,তাহলে ধরে নিতে হবে ঐ সম্পত্তির মালিক সরকার। সেক্ষেত্রে মালঞ্চর দোষ কোথায়? যদি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ যোগ্য হয় তা কেবল করতে হবে সরকারকে। তাছাড়া গৃহ ও ভূমিহীন মালঞ্চ খাস সম্পত্তির ইজারা নিয়েছেন ঘর নির্মাণে,সেখানে তিনি ঘর নির্মাণ করবেন সেটাই স্বাভাবিক। আর যখন ঘর নির্মাণই করলেন তখন নিজ হাতে আবার ভাংলেন কেন? তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে সেসময় পত্রিকান্তে তথ্যবহুল সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।

সম্মেলনে বক্তব্যে বলা হয়েছে,বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের স্মরনাপন্ন হলে শুনানী শেষে আমাদের বাড়ীর সম্পত্তি যার খতিয়ান নং ১৯৩ (এস,এ) সেখানে ১৪৪ ধারা বলবৎ করে প্রশাসনিক আদেশ জারি করেন। এবং বিবাদমান ঘটনাবলী পাইকগাছা বিজ্ঞ সিনিয়ার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বিচারাধীন রয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে,তথ্যানুযায়ী ১৯৩ খতিয়ান নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে সেটা লঙ্ঘন হলে প্রশাসনের বিষয়। কেননা,প্রশাসনের সক্রিয় অংশ গ্রহনেই সরকারের দাবিকৃত সম্পত্তির দখলমুক্ত প্রক্রিয়া চলছে। তাছাড়া ইতোপূর্বে সরকারিভাবে উপজেলা সার্ভেয়ারের তত্ত¡াবধানে খাস সম্পত্তির জরিপ ও চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার সময় ব্যক্তি মালিকানা দাবিদাররা কোথায় ছিলেন? প্রয়োজনে প্রক্রিয়ার উপর অনাস্থা এনে আপিল করতে পারতেন।

সম্মেলনের তথ্যানুযায়ী,উক্ত মালঞ্চ বিবি ও তার সহযোগী ষড়যন্ত্রকারীরা বিগত ১৪ মে ২০১৯ সকাল ১০টায় তহশীলদার জাকির হোসেনের হুকুমে কতিপয় দূর্বৃত্ত আমাদের বাড়ীর পশ্চিম সীমানায় তারের বেড়া,পাঁকা পিলার ভেঙ্গে ১৯৩ এস,এ খতিয়ানের মধ্যে প্রবেশ করে বনজ ও ফলজ গাচপালা কেটে ফেলে এবং আমাদের পরিবারের মহিলা সদস্যসহ অনেককে মারধর করে। বিষয়টি তাৎক্ষনিক পাইকগাছা-কয়রার সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে ঘটমান বিষয়টি সমাধান হয় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রকৃতার্থে প্রশাসন যদি রেকর্ডীয় সম্পত্তির মধ্যে অনুপ্রবেশ করে। তাহলে পুণঃজরিপ করে দেখা যেতে পারে। যে তারা আদৌ সীমা লঙ্ঘণ করেছেন কিনা। তাছাড়া ১৪ মে দখল উচ্ছেদ অভিযানের দিন খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্জ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু ও উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে প্রশমনে শান্তিপূপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পরও তার নির্দেশ অমান্য করে ১৫ মে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৮৫/১৯ মামলার উদ্ভব হল কিভাবে? আর ঐ মামলায় স্থানীয় সাংবাদিক তপন পালকে সম্পৃক্তকরণের হেতু কি? তাছাড়া ২০ মে সকালে কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশই বা কি? ইত্যাদি নানান প্রশ্নে ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো বিষয়টি।

ধারণা করা হচ্ছে,মূল বিষয়টিকে আাঁড়াল করতে কোন তৃতীয় পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে।

সম্মেলনে আরো দাবি করা হয়,দখলরের সময় মালঞ্চ বিবির পক্ষে রাবেয়া খাতুন সহ অজ্ঞাত ৬/৭জন বোরখা পরা মহিলা ছিল । আমরা ধর্মীয়ভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বী পরিবার । গত ১৪ মে ২০১৯ বোরখা পরিহিতা রোজাদার মহিলা দিয়ে জমি দখল করা এবং ২০১৮ সালে ফজরের নামাজ পড়ার কথা প্রচার করে পবিত্র রমযান মাসে সাম্প্রদায়িক উস্কানী দিয়ে দাঙ্গা বাধানোর গভীর ষড়যন্ত্র বলে আমরা ও সচেতন এলাকাবাসী মনে করছেন ।

রায় সাহেবের বংশধর হিসেবে আমাদের দাবী, মালঞ্চ বিবির যে কথিত ডিসিআর সেটা ৫৯৫ নং এস,এ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত, শুধুমাত্র ষড়যন্ত্রকারীদের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমাদের এস এ ৫৯৩ খতিয়ানে জমি দখল করার চেষ্টায় লিপ্ত আছে । উক্ত ঘটনাটি এলাকাবাসী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সংবাদ সম্মেলন করা হয় বলেও জানানো হয়।

এব্যাপারে কপিলমুনি ভূমি অফিসের ইউএলএও মোঃ জাকির হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,তিনি বা সরকারের পক্ষে কেবল সরকারের খাস খতিয়ানভূক্ত সম্পত্তিই দখলমুক্ত করণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি তার উপরিমহলের নির্দেশেই ঐ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্যব্য সমূহ