আদমদীঘিতে বনাশিকা সংস্থায় প্রশিক্ষন নিয়ে বেকারত্বকে হার মানিয়েছে অনেকে।

0
15

আতিকুর হাসান সজীব, আদমদীঘি,(বগুড়া) ::


বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরশহরের রথবাড়ী মহল্লায় সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ‘বনাশিকা’ নামক একটি সংস্থা। সেখান থেকে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় ৪১ জন নারী পুরুষ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে সংস্থাটির সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারে দাঁড়িয়েছে।

বনাশিকা সদস্যদের মাঝে গৃহপালিত পশুপালন, দর্জি, মাদুর তৈরী, বয়স্ক নারী শিক্ষা কার্যক্রম, বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈয়জপত্র তৈরী, আলু বীজ উৎপাদন ও গরুর গোবর থেকে জৈব সার তৈরীরসহ বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। সদস্যদের মধ্যে প্রায় বেশির ভাগই গরীব ও আর্থিক ভাবে অসচ্ছল। সংস্থাটির বয়স্ক নারী সদস্যদের (প্রাথমিক অক্ষরজ্ঞান) বাংলা ও ইংরেজী শিক্ষা দেয়া হয়। শিক্ষা নিয়ে তারা তাদের পরিবারকে সচেতন করে তুলছে।এসব সদস্যরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জৈব সার তৈরী করে নিজেদের বাগানে ব্যবহারের মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে ফল ও সবজি উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিকটতম বাজারে বিক্রি করে মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।এছাড়া সংস্থাটির নারী সদস্যরা সেলাই কাজের প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসারের কাজকর্মের পাশাপাশি সেলাইয়ের কাজ করে প্রতিদিনই ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করছে।

যাদের নিজেস্ব সেলাই মেশিন নেই তারা অন্যের নিকট ভাড়া নিয়ে ঘরে বসেই সেলাইয়ের কাজ করছে।আবার অনেক সদস্য বাড়ীর কাজের ফাঁকে বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প যেমন: পাপোস, টেবিল ম্যাট, প্লাস্টিক ব্যাগ, জায়নামাজ ইত্যাদি তৈরী করে সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করছে। সুন্দর নকশা সম্বোলিত হাতের তৈরী উৎপাদিত এসব দ্রব্যাদি ঢাকার জয়িতা, বগুড়ার নকশা এবং প্রতিবেশী ধনী আত্মীয় স্বজনদের কাছে বিক্রয় করে থাকে।সংস্থাটির সদস্য বন্দনা রানী জানান, পাপোস ও সেলাই কাজের মাধ্যমে আমার যা আয় হয় তা দিয়ে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পর স্বামীকে কিছু সহযোগীতা করতে পারছি। ফলে স্বামীর উপর কিছুটা চাপ কমেছে। নাজনিন নাহার জানান, আমরা নিজেদের পোষা গরুর গোবর থেকে ট্রাইকোজবা জৈব সার তৈরী করে বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছি।

এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত জাতের আলুর বীজ উৎপাদন করে বাজারজাত করে মুনাফা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।ফলে এখন আর পরমূখাপেক্ষী হতে হয়না। মোমেনা ও দিপালী রাণী জানায়, আমাদের অর্থের জন্য আর স্বামীর দিকে চেয়ে থাকতে হয়না। সংসারের কাজকর্মের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করে সংস্থাটির হিসাব শাখায় আংশিক জমা রেখে বছর শেষে জমাকৃত টাকা উত্তোলন করে চাহিদা মত নিজের প্রয়োজন মেটাতে পারি।

এ ব্যাপারে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাম্মী অক্তার জানান, ২০১২ সালে ছাত্তার ম্যানশনের আঙ্গিনায় অসচ্ছল এবং গরীব ৪১ জন নারী পুরুষদের নিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করি। এখন আমার সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজারের মত। ব্যাপক সম্ভাবনাময় এ সংস্থাটি সরকারি ভাবে সাহায্য সহযোগিতা পেলে সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে এলাকার লোকজনদের বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার জন্য কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্যব্য সমূহ