বেনাপোল স্থল বন্দরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের নায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ

0
19

আব্দুল মান্নান, শার্শা(যশোর)::


বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্তজার্তিক লেবার অর্গানাইজেশন আইন লঙ্ঘন করে ঠিকাদারী মাধ্যমে বন্দর শ্রমিকদের নায্য মজুরি ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বন্দর থেকে বের করে দেওয়া হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষ আই এল ও আইন লঙ্ঘন করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিকদের ন্যায্য মুজুরী থেকে বঞ্চিত করছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী মেসার্স ড্রপ কমিউনিকেশন লিঃ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুই বছরের জন্য গত ২৩ নভেম্বর/১৭ ইং তারিখ থেকে স্থল বন্দরের পণ্য হ্যান্ড লিং (ম্যানুয়াল) গ্রুপ “গ” কাজের দায়িত্ব চুক্তি পত্রে চুক্তিবদ্ধ হন। যার স্বারক নং ১৮১৫.০০০০.০২২.১৬.০৪৬.১৭.৩৪৩, তারিখ : ২৬ নভেম্বর/১৭ ইং। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বন্দরে হান্ডলিং কাজ সম্পাদন করতে হবে। প্রতি টন পণ্য লোড আনলোড হ্যান্ডলিং চার্জ ২৩.৭৬ টাকা শ্রমিকদের প্রদানের শর্তে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দায়িত্ব বুঝে নেয়। শর্ত অনুযায়ী দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পর এক হাজার কেজি যা ২৫ মণ (১ মেট্রিক টন) পণ্য লোড আনলোডিং চার্জ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ মাস শেষে ২৫ মণ পণ্যের লোড আনলোর্ডিং বাবদ ১৬ টাকা হারে মুজুরি প্রদান করছেন শ্রমিকদের। যা মোনপুলি ব্যবসার চুড়ান্ত একটি ধাপ।

এছাড়া বেনাপোল স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কষ্টার্জিত অর্থের ঠিকাদারী মোট বিল থেকে শতকরা ৫% ভ্যাট ও ৭% এআইটি কর্তন সাপেক্ষে বিল প্রদান করছেন। মহামান্য হাইকোর্টের এস আর ও নং ৩২০/১৬ শ্রমিকদের ৫০:৫০ হারে মুজুরী প্রদান করার নির্দেশ দিলেও স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ মানছেন না। সাধারণ শ্রমিকদের দাবি শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়নে ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে ১৯৬৯ সালের জারিকৃত আর্ন্তজাতিক লেবার অর্গানাইজেশনের বিধান অনুযায়ী যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হোক।

বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ তা না করে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে শ্রমিক হ্যান্ডলিং ঠিকাদার নিয়োগ করে শ্রমিকদের মুজুরী পরিশোধ করছেন। যে কারণে শ্রমিকরা ন্যায্য মুজুরী ও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সম্প্রতি বেনাপোল স্থল বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং (ম্যানুয়াল) কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার শ্রমিকদের মুজুরী পরিশোধের হার নির্ণয়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত টিম গঠন করেন।

তদন্ত কমিটি স্থল বন্দরের শ্রমিক ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স ড্রপ কমিউনিকেশন লিঃ এর প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামানের সাথে কথা বলে জানতে পারেন প্রতি টনের বিপরিতে পণ্য হ্যান্ডলিং (ম্যানুয়াল) লোড আনলোডিং চার্জ শ্রমিকদের ১৬ টাকা হারে প্রদান করছেন। যা তদন্ত টিম গত ০৮/০৫/২০১৮ ইং তারিখে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। এ দিকে শ্রমিকদের ন্যায্য মুজুরি আদায়ের ব্যপারে বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক ফেডারেশন গত হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেছেন।

মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার বলেন শ্রমিকদের জীবন মান উন্নয়ন ও ন্যায্য মুজুরী প্রদান করতে হলে ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে আই এল ও আইন বাস্তবায়ন ও ৩৮ নং ফরমের মাধ্যমে শ্রমিকদের মুজুরি প্রদান করলে ন্যায্য অধিকার ও ন্যায্য মুজুরী প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেন দেশের ২৩টি স্থল বন্দরের অধিকাংশ স্থল বন্দরের শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মুজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বেনাপোল বন্দর পরিচালক প্রদোষ কান্তি দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ বিষয়ে কিছু বলার নেই।

মন্ত্যব্য সমূহ