মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অভিনব উদ্যোগে ব্যস্ত মানুষদের শরীরচর্চা করার সুযোগ সৃষ্টি

0
19

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর)অফিস॥


‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মুল’- এ শ্লোগানকে সামনে রেখে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বনামধণ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ শরিফী এবার গ্রহণ করলেন একটি অভিনব উদ্যোগ। উপজেলা ক্যাম্পাসে অবস্থিত ব্যাডমিন্টন কোর্টটিকে মিনি ইনডোর স্টেডিয়ামের আদলে রূপ দিয়ে চাকুরীজীবি ও ব্যস্ত মানুষদের শরীরচর্চা করার সুযোগ সৃষ্টি। সেখানে নিয়মিত চলছে সৌখিন ও অপেশাদার খেলোয়াড়দের ব্যাডমিন্টন খেলা।

মণিরামপুর দেশের মধ্যে অন্যাতম বৃহত্তম উপজেলার মধ্যে একটি। ১টি পৌরসভা ও ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলাটি গঠিত। আয়াতনের তুলনায় জনসংখ্যার বসতিও নেহাতই কমতি নেই। বৃহত্তম এ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা বা উপজেলা পর্যায়ে রাষ্ট্রের আমলাদের মধ্যে প্রধান পদে আসীণ থেকে দ্বায়িত্ব পালন করছেন ন্যায়-নীতি এবং নিষ্ঠার সাথে। প্রশাসনিকসহ সার্বিক উন্নয়নের জন্য কোন কাজে তার এতটুকু গাফিলতী যে নেই-সে কথা স্বীকার করবে মণিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সাধারণ জনতা। গুরুত্বপূর্ণ এ পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এতটুকু ফুসরতেরও সময় পর্যন্ত নেই তার। শুধু কাজ আর কাজ। সেই কাক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ততার এতটুকু কমতি নেই। তার পরেওতো শরীরটা ঠিক রাখতে হবে।

শরীর ঠিক থাকলে সব কিছুই ঠিক থাকে। শরীর সূস্থ্য থাকলে সব কিছুই ভাল লাগে, মনে ফূর্তি থাকে, কাজ কর্মে আসে গতি। অর্থ্যাৎ সুস্থ্য দেহ এবং মন-সুস্থ্য মানুষিকতার শিল্প বহন করে।তাই শরীরটাকে একটু সুস্থ রাখার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। কেউ খেলাধুলা করে, কেউ হাটাহাটি বা হালকা কসরতের মাধ্যমে নিয়মিত শরীর চর্চা অর্থ্যাৎ ব্যায়াম করে থাকেন। কিন্তু নিজ বয়স আর অবস্থানের কথা চিন্তা করে সে ভাবনা থেকে অনেকের মতো তিনিও পিছু হটেন। কিন্তু ভাবনা থেকে সরে আসলেও মন সাই দিলো না এই সর্বগুনে গুনাম্বিত এই মহৎ মানুষটির।

তাই হঠাৎ গ্রহণ করলেন একটি অভিনব উদ্যোগে। নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যলের ঠিক সামনেই রয়েছে ব্যাডমিন্টন কোর্ট। এটা দেখে তিনি ভাবলেন ব্যাডমিন্টন খেলার মাধ্যমেই তো ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা যায়। যদিও খোলা মাঠে এই শরৎ ঋতুতে ব্যাডমিন্টন খেলা এক্কেবারে অসম্ভব। কিন্তু তিনি সেকথা চিন্তা করে থেমে থাকেননি। শীত মৌসুমে যারা শখের বসে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলতেন-তাদের কয়েকজনের সাথে তিনি একটি পরামর্শ বৈঠক বসলেন। সে বৈঠকে বেরিয়ে এলো সমাধান। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হলো ব্যাডমিন্টন কোর্টের চারিদিকে মোটা জাতীয কাপড় দিয়ে উচু করে ঘিরে দিলে এখনই ব্যাডমিন্টন খেলা করা সম্ভব। সে মোতাবেক দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য মণিরামপুর মুক্তেশ্বরী ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রবীর কুমার রায় চৌধুরীর উপর দায়িত্ব প্রদান করলেন। যথারীতি তিনি ৩ দিনের মধ্যে এ কাজে অভিজ্ঞ এমন একজনকে দিয়ে কাপড় তৈরী করে কোর্টের চর্তুদিকে ঘিরে ফেলে খেলার উপযোগী হিসেবে তৈরী করে ফেললেন। এখন বিকেল থেকেই গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের অপেশাদার খোলোয়াড়রা সেখানে ব্যাডমিন্টন খেলার ছলে একটু বায়াম বা শরীরচর্চা করে নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে সৌখিন ও অপেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার আয়োজন প্রায় সমাপ্তের পথে। অচিরেই শুরু হবে সেই আকর্ষনীয় টুর্নামেন্ট।

মন্ত্যব্য সমূহ