খুলনার ডুমুরিয়ায় ফসলের ক্ষেতে আগাম সীমের সমারোহ, ২০ কোটি টাকা বাণিজ্যের সম্ভাবনা

0
87

::: শেখ মাহতাব হোসেন,ডুমুরিয়া(খুলনা) :::

দেশের অন্যতম প্রধান সব্জি উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রসিদ্ধ। স্থানীয় কৃষি বিভাগের তৎপরতায় দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় ইতোমধ্যে আগাম বাজারে উঠতে শুরু করেছে শীতকালীণ শিম। তবে প্রথমত পরিমাণে কম হলেও আগাম হাইব্রিড জাতের সিমের সমারোহে কৃষকদের পাশাপাশি ক্রেতারাও খুশী।

স্থানয়িরা জানান,প্রথম দিকে পরিমাণে কম হওয়ায় দাম বেশ চড়া প্রতিকেজি সিম পাইকারী বিক্রি হচ্ছে,১৩০ থেকে ১৫০টাকা আর খুচরা প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। মৌসুমের শুরুতে ভাল দাম পেয়ে খুশি শিম চাষীরাও।

কৃষি বিভাগ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট চাষীরা জানায়,আর দু’ এক সপ্তাহ পর থেকে পুরোদমে বাজারে উঠবে সিম। তখন দামটাও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে চলে আসবে।

স্থানীয় কৃষি অফিস জানায়, আবাদ লক্ষ্যমাত্রানুযায়ী চলতি বছর প্রায় কোটি টাকার সিম বিক্রি হবে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে সবুজের উপরে সাদা বেগুনি রংয়ের ফুলের ছোট মাঝারি ও বড় সাইজের সিম বন। কোন কোন এলাকায় দেখা যায়, সিম মাচার পাশে দাঁড়িয়ে কৃষাণ-কৃষাণীর হাস্বোজ্জ্বল ছবি। তাদের অনেকেই ব্যস্ত রয়েছেন ক্ষেত পরিচর্যায়।

পড়ন্ত বিকেলে প্রান্তর জুড়ে সিম ক্ষেত পরিচর্যা ও বালাই দমনে কৃষকদের তৎপরতা রীতিমত চোখে পড়ার মত। কোন কোন এলাকার যতদূর চোখ যায় শুধু সিম ক্ষেতের চোখ ধাঁধানো সবুজের উপর বেগুণীর সমারোহ। এসময় একদিকে কচি সিম ফুলের ভিন্ন আমেজের সুবাসের পাশাপাশি বালাইনাশকের উটকো গন্ধে আশপাশের এলাকা ভারি হয়ে উঠে ডুমুরিয়ার প্রান্তর।

জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের ভরাতিয়া গ্রামের কৃষক নব কুমার জানান, শীতকালীন সব্জি হাইব্রিড জাতের  সিমের মৌসুম  সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস। এজাতের সিম বাজারে আসতে শুরু করেছে আরো এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে। তবে যাদের সিম বাজারে এসেছে তারা দামও ভাল পাচ্ছেন। বর্তমানে দাম বেশি থাকলেও আর কিছু দিনের মধ্যে দাম সহনশীল পর্যায়ে চলে আসবে। তিনি আরো জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৩ বিঘা জমিতে সিমের আবাদ করেছেন তিনি।

আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশে সিমের পাতা মোড়ানো রোগ দেখা যায়নি তারপরও সতর্ক থাকতে সপ্তাহে দুই তিন দিন কীটনাশক  ছিটানো হয় । তারা আরো জানান, আর অতি বৃষ্টি কিংবা কুয়াশায় প্রতিদিন বালাইনাশকের প্রয়োজন পড়ে।

ডুমুরিয়া আনোয়ারা মার্কেটের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম জানান, ইতোমধ্যে বাজারে অতি অল্প পরিমাণে সিম আসতে শুরু করেছে। তবে ১/২ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ১০ ট্রাক পর্যন্ত সিম আসবে। তিনি আরো জানান,ডুমুরিয়ার সিম স্থানয়ি বাজারের চাহিদা মিটিপয়ে দেশের ঢাকা,সিলেট,চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে রপ্তানি হয়।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোসাদ্দেক হোসেন জানান, এবার সিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮২ হেক্টর জমি। আগাম উৎপাদনের লক্ষ্যে এ এলাকায় ইতোমধ্যে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কোন কোন ক্ষেতে ইতোমধ্যে অল্প অল্প করে সিম উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আটলিয়া ও খর্নিয়া শরাফপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আগাম সবজির চাষ চলছে।

তিনি আরো জানান,আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশ ও গত বছর সিমের দাম ভাল পাওয়ায় ডুমুরিয়ায় সিমসহ অন্যান্য সব্জির আবাদ বেশি হয়েছে। শুধু মাত্র সিম চাষে বিক্রয় লক্ষমাত্রা প্রায় ২০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে কিছু কিছু এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতার দরুণ সিমের উৎপাদন ঐ সব এলাকায় কিছুটা কম হতে পারে। সর্বশেষ আবহাওয়ার পরিবেশ অনুকূলে থাকলে সিম চাষ জেলার যেকোন এলাকা ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন কৃষি বিভাগের এ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।

মন্ত্যব্য সমূহ