জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদে বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন জামিল আহমেদ

0
20

বিশেষ প্রতিবেদকঃ


বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)’র খুলনা শাখায় জাল সনদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি করছেন অত্র শাখার এজিএম এম এম জামিল আহমেদ। তিনিসহ একই পরিবারের তিন ব্যক্তি ভুয়া সনদে চাকরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে গ্রামবাসীসহ নিজ অফিসসহ সুশীল সমাজে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মোল্লাহাট ৪নং কুলিয়া ইউনিয়নের চরকুলিয়ার মৃত মোঃ আকমান উদ্দীন মিনা এর তিন ছেলে। যাদের সকলেই সরকারি চাকুরী করেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। যাদের একজন এম এম জামিল আহম্মেদ। তিনি অফিসার পদে ২০০০ সালে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনে নিয়োগ পান। এই কর্মকর্তা তৎকালিন সময়ে পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেখিয়ে চাকরিতে যোগাদান করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের খুলনা শাখার এজিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত পরিবারের সন্তান হয়েও তিনি মুক্তিযোদ্ধা কোটা সুবিধা নিয়ে বিএইচবিএফসি তে চাকরি করেন। বর্তমানে তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় চলছেন দাপটের সাথেই। অভিযোগ রয়েছে চাকরির সুবাধে বিভিন্ন সময় অবৈধ সুবিধা নিয়ে তিনি গড়েছেন অঢেল সম্পদ। আর বর্তমানে কর্মকর্তা হওয়ার সুবাধে বিভিন্ন লোন সুবিধা সে তো নিচ্ছেনই। তবে ইতোমধ্যে লোনের টাকা পরিশোধের উৎস্য নিয়েও নানা প্রশ্ন জনমনে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে। তার বেতনের সাথে কি সামঞ্জস্য? এই অর্থ ও সম্পদ তিনি অর্জন করেছেন ঋণ গ্রহিতাদের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা দিয়ে। এমনটাই জানান, ভুক্তভোগীদের অনেকেই।

এতদ সংক্রান্তে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ পড়লেও প্রথম থেকেই টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে আসছেন।
তার বাবা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না এবং তাদের নেই কোন গেজেট বা মুক্তিবার্তা, কোন সরকারী ভাতাও পাননা। আছে শুধু জাল সার্টিফিকেট। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এনিয়ে তাদের নিজ গ্রামেই চলছে নান গুঞ্জন।

স্থানীয় গ্রামবাসিদের অভিযোগ মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও কিভাবে সরকারী অফিসে দীর্ঘ দিন যাবৎ চাকরি করছেন তা নিয়ে রীতিমত প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এলাকাবাসীকে। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। আর দেশের সূর্য সন্তানদের নামে জাল সনদ প্রস্তুত করে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকরি করলেও কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থাই বা নিচ্ছেন না কেন? এমন নানা প্রশ্ন জনমনে বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে।

আরো বলেন, নিয়োগের সময় যাচাই-বাচাই না করে কিভাবে চাকরিতে যোগদানে অনুমতি দেয় তা আবার পূনরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের কাছে।

তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া যায় জামিল আহমেদ সম্পর্কে আরো কিছু মন্তব্য, পাঠকদের জন্য সেখান থেকে কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরা হল।
মিজান রহমান নামে এক গ্রাহক জানান, লোন নিতে গেলে ওনারা যে হাইকোর্ট দেখান তা কিন্তু শতভাগ সত্য। নিজের কেনা ও দখলি জমি, দলিল, রেকর্ড পর্চা, খাজনা দাখিলা, সব থাকা সত্বেও ওনাদের অকারণ প্যাচের কারনে লোনের মুখ আর দেখা যায় না। তবে পার্সেন্টেজ হিসাবে মিষ্টির খরচ দিলে ১৫ দিনে পাশ। এটা চিরন্তন সত্য।

সাবরিনা শারমিন নামে একজন বলেন, এই লোকের সাথে একবার নির্বাচন এর ডিউটি করেছিলাম। তখনও উনি কিছু টাকা কম দিয়েছিলেন!

সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, এম এম জামিল আহমেদের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ পড়া স্বত্তেও কোন এক অজানা কারণে বারংবার আটকে যায় তদন্ত কাজ। কয়েকবার তার দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট যাচাই করার জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়। পরবর্তিতে তিনি অন্য সার্টিফিকেট জমা দেন এবং আবারো তার দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। আর এভাবেই ফাইল আদান প্রদান এর ভিতর দিয়েই তিনি শুধু সময় বাড়াচেছন এবং কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলছেন।

মোল্লাহাট ৪নং কুলিয়া ইউনিয়নের বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোড়ল শহিদুল ইসলাম বলেন, এম এম জামিল আহমেদের পিতা মোঃ আকমান উদ্দীন মিনা ভাল লোক ছিলেন এবং জামায়াত ইসলাম দলের সাথে রাজনীতি করতেন। তবে আমার জানা মতে তিনি কখোনো মুক্তি যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেননি। বা এখন পর্যন্ত কোন গেজেটে তার নাম আমি দেখিনি। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হিসেবে আজ তেরো বছর দায়িত্বে আছি। এই তেরো বছরের ভিতর আমি কোন কাগজ পত্রে দেখি নাই মোঃ আকমান উদ্দীন মিনা নামে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে। লাল তালিকা বা বাংলাদেশ গেজেটে যদি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম না থাকে তাহলে সে সার্টিফিকেট পায় কিভাবে। আর যদি আকমান উদ্দীন মিনার ছেলে এম এম জামিল আহমেদ কোন মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট দিয়ে কোটা সুবিধায় চাকুরী নিয়ে থাকেন। তাহলে বুঝতে হবে সার্টিফিকেটটি সঠিক নয়। তিনি জাল মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন। আর বাংলাদেশ গেজেটে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম না থাকলে সে যেখান থেকেই আসল সার্টিফিকেট এনে ব্যবহার করুক সেটা জাল বলেই বিবেচিত হবে। তাছাড়া এখন অনলাইনেই সব যাছাই করার সুযোগ আছে। এবং তিনি যদি এই কাজটি করে থাকেন, আমি বলবো মাননীয় প্রধান মন্ত্রী আপনি এর ব্যবস্থা নিন। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা চাকুরির অভাবে ঘুরে বেড়াচেছ আর কিছু দুষ্ট লোক জাল মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দিয়ে কোটা সুবিধা নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করছেন।

বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এর আগেও আরো দুইজন কমান্ডার ছিলেন, মোসলেম উদ্দীন ও মোল্লা কেরামত তারাও একই কথা বলেন। ৪নং কুলিয়া ইউনিয়নে মোঃ আকমান উদ্দীন মিনা নামে কোন মুক্তিযোদ্ধা আছে তারা কখনো দেখেনি বা শোনেনি।

এ বিষয়ে কথা হয় এজিএম এম এম জামিল আহমেদের ব্যাবহৃত সেল নান্বারে কথা হলে তিনি বলেন, আমার যা আছে তা দেখেই কর্তৃপক্ষ আমাকে চাকরি দিয়েছে। তারাই এটাই ভাল বুঝবে।

তবে আপনি সাংবাদিক কেন এ বিষয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছেন। তিনি অত্যান্ত দাম্ভিক্যের সাথে বলেন আমার বিরুদ্ধে লিখে দেন। লিখেও আমার কিছুই করতে পারবেন না। আমার সাথে উচ্চ মহলে ভাল সম্পর্ক এবং বড় বড় সাংবাদিক নেতা আমার পিছনে লাইন দিয়ে থাকে এ বলেই সংযোগটি কেটে দেন ।

বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তীকে ফোন দেওয়া হলে ফোনটি রিসিভ করেন তার স্টাফ অফিসার আব্দুর রহিম। তিনি জানান, স্যার বাংলাদেশ ব্যাংক এর গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এ আছেন এই মূহুর্তে কথা বলতে পারবেন না।

মন্ত্যব্য সমূহ