তালায় ঘুষ গ্রহনের সময় জনতার হাতে সহকারী নায়েব আটক

0
6

দীপ্ত নিউজ,তালা অফিস:::


সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী নায়েব আঃ জলিলকে ঘুষ গ্রহনকালে জনতা আটক করেছে বলে অভিযোগ পাওয়াগেছে। করোনায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রম’র অংশ হিসেবে উপকারভোগী যাচাই-বাছাইকালে মঙ্গলবার (১২মে) দুপুরে মাগুরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের রঘুনাথপুর এলাকায় ঘুষ গ্রহনের সময় জনতার হাতে আটক হন তিনি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে তাকে মুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, করোনায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার জন্য অসহায় মানুষের আর্থিক সাহয্যের জন্য তালিকা তৈরী করা হয়েছে। তালিকা সঠিকভাবে করা হয়েছে কিনা তা তদারকির জন্য তালা উপজেলা প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

যার ধারাবাহিকতায় উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে রঘুনাথপুর গ্রামে তদন্ত ভার পড়ে মাগুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী নায়েব আব্দুল জলিল’র উপর। তিনি তালা উপজেলার মুড়াকুলিয়া গ্রামের শেখ তায়েজুল ইসলামের ছেলে।

তদন্ত কর্তা হিসেবে আব্দুল জলিল সুযোগ নিয়ে সরকারী সহায়তার বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিজিটিকার্ড, ১০ টাকার রেশন কার্ডসহ উপকারভোগীদের নাম তদন্তপূর্বক চিহ্নিত করে তাদের একাধিক জনের কাছ থেকে ১-৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় জনগন তাকে আটক করে রাখেন। উল্লেখ্য, সহকারী নায়েব আব্দুল জলিল দূনীতির কারনে কয়েকবার সাজা খেটেছেন বলে সূত্র জানায়।

রঘুনাথপুর গ্রামের বেলায়েত গাজীর স্ত্রী শাহিদা বেগম(৬০) এ প্রতিনিধিকে বলেন, তার নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দিয়ে তার নিকট থেকে ১ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। একই এলাকার মৃত শামসু শেখ এর ছেলে রাজু শেখ (৩৩) বলছিলেন, নায়েব জলিল তালিকা থেকে তার নামটিও বাদ দেয়ার ভয় দেখিয়ে ১হাজার টাকা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় রঘুনাথপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইয়াছিন শেখ বলছিলেন, নায়েব জলিল কার্ড দেয়ার নাম করে টাকা নেয়ার বিষয়টি সত্য। তার সাথে স্থানীয় জাহান আলী মোড়লের ছেলে আকবর আলী মোড়ল নামে আরো একজন ছিলেন । একপর্যায়ে এলাকা থেকে টাকা নেওয়ার সময় সচেতন এলাকাবাসী তাকে আটক করে লাঞ্ছিত করতে উদ্যত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিক বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যানসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেনকে জানান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান গনেষ চন্দ্র এ প্রতিনিধিকে বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। সহকারী নায়েব কার্ডের যাচাই বাছাই এবং মানবিক সাহায্য দেওয়ার নাম করে অসহায় মানুষের নিকট থেকে অবৈধ সুযোগ গ্রহনকালে উত্তেজিত জনতা তাকে আটকে রাখলে সামগ্রিক পরিস্থিতির কথা ভেবে তাকে উদ্ধার করে আমার কাছে আনতে বলি।

এ বিষয়ে সহকারী নায়েব মোঃ আব্দুল জলিল বলেন, বিষয়টির সাথে আমি জড়িত না। ইউপি মেম্বর সব জানেন। টাকা উঠিয়েছে আকবর মোড়ল । আমাকে মিথ্যা ভাবে ফাঁসনো হচ্ছে বলে আত্নপক্ষ সমর্থন করে বলছিলেন তিনি।

এ ব্যাপারে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, সহকারী নায়েব জলিল এর সম্পর্কে আমি শুনেছি। তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আপনারা অতিদ্রুত সেটা জানতে পারবেন।

মন্ত্যব্য সমূহ