কড়াকড়িতেও সাতক্ষীরার কুমিরায় সরকারি মানবিক সহায়তার তালিকায় চেয়ারম্যানের নয়ছয়

0
8

জামালউদ্দীন, শেখ নাদীর শাহ্:::


নভেল করোনার মহামারি প্রকোপ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় করোনার প্রভাবে গোটা বিশ্ব আজ স্তব্ধ। ভাইরাস সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি এড়াতে সরকারিভাবে গ্রহণ করা হয়েছে নানা উদ্যোগ। আর তাই সংক্রমন এড়াতেই গোটা জাতি আজ অবরুদ্ধ। পাশাপাশি সারাদেশে সরকারি বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নে দিনরাত এককরে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন প্রশাসন।

আর শুধুমাত্র অবরুদ্ধ করনই নয়, সোনার বাংলার স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নানা দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অবরুদ্ধ দশায় আয় রোজগার শূন্য বিপুল সংখ্যক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবন যাপনের নিশ্চয়তায় ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রদানে স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে প্রশাসনিক মাধ্যমে নানা উপায়ে অসহায়-দরিদ্র মানুষদের নিকট উপহার হিসাবে পৌছে দিচ্ছেন নগদ অর্থসহ বিভিন্ন খাদ্য সহায়তা।

তবে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নশীল চিন্তা-চেতনা থেকেই নির্দেশ দিয়েছেন পরিসংখ্যান ব্যুরো ও সরকারের অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনীতে যারা মহামারি করোনার আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত তাদেরকে নতুন করে যেন এ তালিকায় যোগ না করা হয়।

কিন্তু সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আজিজুল ইসলামকে দেখাগেছে ভিন্ন রূপে। তার খামখেয়ালীপনার চিত্র তুলেধরে গত ১৪ মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৪নং কুমিরা ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার তালিকা প্রণয়নে নয়ছয় শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলেও টনক নড়েনি তার।

অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ফের সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কুমিরায় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আজিজুল ইসলাম ইচ্ছাখুশি মত প্রণয়ন করেছেন সরকারি সহায়তার তালিকা। কুমিরায় সর্বোমোট ৫৫০ জন এ সহায়তার আওতায় পড়লেও যার প্রায় অর্ধেকের বেশিরভাগই ইতোপূর্বে অন্যান্য সরকারি সামাজিক সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন।

হেয়ালিপনার এ তালিকায় এমনটাই লক্ষ্যনীয় যে সেখান থেকে বাদ পড়েনি সরকারি স্কুলের শিক্ষক সহ স্বামী-স্ত্রী দু,জনেও। এমনকি একই নামে একাধিক সহায়তা কার্ড প্রণয়নের সত্যতাও মিলেছে। যার ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। কার্যত এগুলো কি সরকারি নির্দেশনাকে অবমাননার অন্তর্ভুক্ত নয়? নাকি ক্ষমতার অপব্যবহার?

তথ্যানুসন্ধানে দেখা গেছে, কুমিরা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সেনপুর গ্রামের নওশের আলীর পুত্র মিজানুর রহমান শেখ তেরছি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। তারই ভাই আমিনুর রহমান মহাদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদেরকেও সহায়তা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে (যার সিরিয়াল নং- ৪১, ৪২)। একই ওয়ার্ডের আমানুল্লাপুর গ্রামের পুনিল দাশের পুত্র সূর্যকুমার দাশ সমাজের বিত্তবানদেরই তালিকার একজন । তিনিও বাদ পড়েননি এ তালিকা থেকে (তার সিরিয়াল নং- ৪৩)।

এদিকে এটাও নজর এড়ায়নি যে, ৪নং ওয়ার্ডের কুমিরা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র দাউদ আলী ও তার স্ত্রী নার্গিস বেগম দু,জনকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে একই সহায়তার তালিকায় (সিরিয়াল নং- ২১২ ও ২১৩)। এখানেই শেষ নয় নার্গিসের নামে মার্তৃত্ব ভাতার কার্ডও রয়েছে।

এদিকে কুমিরার ৫নং ওয়ার্ডের কুমিরা গ্রামের হরিদাস দত্তের পুত্র মহাদেব দত্তর নাম একই তালিকায় ২ বার অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে (যার সিরিয়াল নং- ২৩১ ও ৪৮৫)।

তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সর্বোচ্চ সহায়তা হচ্ছে বিনামূল্যে ৩০ কেজি চাউল প্রদান। যাকে সরকার ভিজিডি হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। ভিজিডি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েও ৬নং ওয়ার্ডের কুমিরা গ্রামের প্রফুল্লর পুত্র জয়দেব কুমারের নামও নতুন করে সহায়তার তালিকায় যোগ করা হয়েছে (যার সিরিয়াল নং- ৩২৬)।

অপরদিকে ফেয়ারপ্রাইজ কার্ড ও স্ত্রীর নামে মার্তৃত্ব ভাতার কার্ড থাকার স্বর্তেও ৬ নং ওয়ার্ডের কুমিরা গ্রামের অনিল দত্তের পুত্র কনেক দত্তকেও এ তালিকায় যোগ করা হয়েছে (যার সিরিয়াল নং-২৯৪)। একইভাবে বাদ পড়েননি ৬নং ওয়ার্ডের কুমিরা গ্রামের দিলিপ দে,র পুত্র নিমাই দে। ভিজিডির কার্ড প্রাপ্তির স্বর্তেও প্রধানমন্ত্রীর দূর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তায় যুক্ত করা হয়েছে তাকে (যার সিরিয়াল নং- ২৭৯)।

প্রতিবেদনকালে কয়েকটি ওয়ার্ডে সরকার ঘোষিত নিয়মনীতির উপেক্ষা করে তালিকা প্রণয়নে পঞ্চাশোর্ধ নাম পাওয়া গিয়েছে যাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করায় জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ইউপি সদস্য এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তালিকায় সর্বোমোটের অর্ধেকই চেয়ারম্যান নিজেই করেছেন। যার ফলে ইউপি সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর কুমিরা ইউনিয়নের সবুজ পল্লী গ্রামের মূলত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নাম এ তালিকায় না থাকায় তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এগুলো কি সরকারি নির্দেশনাকে অবমাননার অন্তর্ভুক্ত নয়?

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, শুনেছি সরকার অসহায় দুঃস্থদেরকে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও ২৫০০ করে নগদ টাকা মোবাইলে বিকাশের মাধ্যমে দেবেন। জানি না সে তালিকায়ও চেয়ারম্যান নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম দিয়েছেন কি না?

সর্বশেষ স্থানীয়রা এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চলমান করোনা সংকটময় মুহুর্তে তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা না করা হলে পরিবার পরিজনদের নিয়ে খাদ্য সংকটে বেঁচে থাকার তাগিদে তাদেরকে আন্দোলনে বাধ্য হতে হবে।

 

মন্ত্যব্য সমূহ