শিশুর জন্ম নিবন্ধন করলেই আকর্ষণীয় পুরুষ্কারে পৌছে যাচ্ছে ফ্রি পুষ্টি বার্তা, ইউএনও’র মহতি উদ্যোগে সাড়া মিলেছে পাইকগাছায়

0
2

শেখ নাদীর শাহ্::


শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলেই মিলবে আকর্ষণীয় পুরস্কার পাচ্ছেন শিশুর পরিবার। জন্ম নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনার পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। ইউএনও’র এমন ঘোষণায় সাড়া পড়েছে উপজেলাব্যাপী।

প্রতিটি শিশুর জন্মের পর তার জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ শিশুর পিতা-মাতা যথা সময়ে নিবন্ধন করাননা। ফলে পরবর্তীতে জন্ম নিবন্ধন নিয়ে তার নানান জটিলতা সৃষ্টি হয়। শিশু জন্মের পর দ্রæত সময়ের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পাইকগাছা ইউএনও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। নবজাতক’র পিতা-মাতাদের জন্ম নিবন্ধনে উদ্বুদ্ধ করতে তার জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে আকর্ষনীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন ঘোষণার মাত্র ১ মাসের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে। পৌরসভাসহ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। শিশু জন্মের পরপরই অধিকাংশ পিতা-মাতা তাদের সন্তানের জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করছেন। এমনকি ইতোপূর্বে যারা জন্ম নিবন্ধন করেননি তারাও নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করছেন বলে বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ ইউনিয়নের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।
ঘোষণা মতে ইতোমধ্যে অনেক শিশুর পিতা-মাতার হাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেই পুরস্কার তুলে দিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ের পুরস্কার হিসেবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শতাধিক শিশুর পিতা-মাতাকে টিফিন বক্স প্রদান করেন। এদিকে ইউএনও’র এমন ব্যতিক্রমী মহতি ঘোষণায় সামিল হয়েছে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। দ্বিতীয় পর্যায়ের পুরস্কার হিসেবে পুষ্টি বার্তার প্রিন্ট সম্বলিত ১শ প্লেট ও বাটি সরবরাহ করেছে উন্নয়ন সংস্থা সুশীলন।

এপ্রসঙ্গে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী আই নিউজ বিডিকে জানান, উপজেলায় দীর্ঘ দিন ধরে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমে অভিভাবকদের মধ্যে অনিহা তৈরী হওয়ায় তা নানাভাবে বাঁধাগ্রস্থ হয়ে আসছিল। সরকারের বাধ্যতামূলক এ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করণে তিনি শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য পুরুষ্কার ঘোষণা করেন। পুরষ্কারটি যদিও বিশেষ কিছু নয়, তবে এতেও ভিন্ন মাত্রার উদ্দেশ্য নিহিত রয়েছে। কেননা, প্রতিটি প্লেট কিংবা বাটিতে প্রিন্ট করা হয়েছে বিশেষ পুষ্টি বার্তা। এতে করে শিশুর পিতা-মাতা কোনভাবেই প্রলুব্ধ হয়ে নয়, বরং পুরুষ্কার ঘোষণায় কৌতুহলবশত কার্যক্রম বাস্তবায়নে তাদের কাছে গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণে।

এসময় তিনি আরো বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় লোনা পানির জনপদের তৃণমূল মানুষের মধ্যে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিশেষ ধারণা নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে তার ছোট্ট ঘোষণায় প্রাণ ফিরেছে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রমে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিশুর পরিবারের পাশাপাশি তার প্রতিবেশীদের মধ্যে পৌছে যাচ্ছে পুষ্টি বার্তার মেসেজ।

সর্বশেষ জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম শতভাগ বাস্তবায়নে ইউএনও’র উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন পাইকগাছাবাসী।

মন্ত্যব্য সমূহ