বাঁকড়া পারবাজারে এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু

0
3

উত্তম চক্রবর্তী, মণিরামপুর(যশোর)::


যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের পাঁচপোতা (বাঁকড়া পারবাজার নামে পরিচিত) খাইরুন নেছা (৩৫) এক মহিলার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পারবারিকভাবে ষ্ট্রোক জনিত কারণে মৃত্যুর কথা বললেও তাকে মারপিট করার কারণে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

মৃত খাইরুণ নেছার স্বামী বাবলুর রহমান মিন্টু জানান, সকালে গরুর খাদ্য তৈরি করছিল, এমন সময় তার বড় মেয়ে বলে মা কেমন করছে। এসময় সে দৌড়ে এসে দেখে খাইরুন নেছা মাটিতে পড়ে আছে। পরে বাজারের এক ক্লিনিকের নার্স এসে দেখে বলে সে মারা গেছে। কিন্তু এলাকার লোকজন বলছে ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, সকালে তাদের পারবারিক গন্ডোগোল হয়েছিল। সেই গন্ডোগোলের জের ধরে বাবলুর রহমান মিন্টু তার স্ত্রীকে মারপিট করার পরে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। এখন ষ্ট্রোক বলে এ আত্নহত্যাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মণিরামপুর উপজেলার ঝাঁপা ফাঁড়ির ইনচার্জ ওয়াসিম আকরাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে খাইরুন নেছার পরিবারের কোন অভিযোগ নেই। সেখানে অভিযোগ থাকে না, সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।
পার্শ্ববর্তী এক চায়ের দোকানদার জানান, ভোরবেলা আমি যখন দোকান খুলি, তখন ওদের বাড়ি চিৎকার চেচামেচি শুনে দৌড়ে গিয়েছিলাম। খাইরুন নেছার স্বামী বাবলুর রহমান তাকে মারপিট করছিল। পরে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আরবারও কান্নাকাটির শব্দ শুনে গিয়ে শুনি সে মারা গেছে।

স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য জানান, সকালে তাকে মারপিট করা হয়েছিল, একারণে সে গলায় দড়ি দিয়ে আত্নহত্যা করেছে বলে আমরা শুনেছি। তার শরীরে মারপিটের চিহৃ পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

তবে এ ব্যাপারে মৃত খাইরুন নেছার মা রিজিয়া বেগমের কোন অভিযোগ নেই। তার মেয়ের ষ্ট্রোকজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পারবারিকভাবে লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।

মন্ত্যব্য সমূহ